আল্লাহ,র অস্তিত্তের প্রমান স্বরুপ নিম্মোক্ত আলোচনা গুলো দেওয়া হলো

সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস কোন অন্ধ বিশ্বাস নয়, এটা একটা যৌক্তিক অবস্থান । নিচে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কয়েকটি প্রমাণ উল্লেখ করা হলঃ 

১। মহাবিশ্বের অতিসূক্ষ্ম সমন্বয়পূর্ণতা

আমরা যদি আমাদের চারপাশে প্রকৃতির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই সবকিছু একটা অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধানের মধ্যে আবর্তিত । মহাবিশ্ব তথা সৌরজগৎ, মহাকাশ, চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, গাছপালা ইত্যাদি প্রত্যেকটা জিনিষ একটা শুধু সূক্ষ্ম নয় বরং অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধান দ্বারা পরিচালিত । পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব যদি এক ইঞ্চিও বেশী বা কম হত তাহলে এই পৃথিবী বসবাসের উপযোগী হত না । বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি একটু কম বা বেশী হত তাহেলও মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারতনা । অর্থাৎ প্রকৃতির এ সবকিছুই একটা সু নির্দিষ্ট অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধানের মধ্যে আবর্তিত । যেহেতু মহাবিশ্বের সবকিছুর মধ্যে আমরা অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণতা দেখতে পাই সেহেতু আমাদের মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই অতিসূক্ষ্ম শৃঙ্খলা এল কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদেরকে একটু যুক্তি এবং বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে । আসুন আরেকটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টাকে খোলাসা করা যাক । আপনার হাতের মোবাইল ফোনটাকেই ধরুন । এটা কাচ , পাস্টিক এবং metal বা ধাতু দ্বারা তৈরি । আমরা জানি কাঁচ বালু থেকে আসে, পাস্টিক আসে তেল থেকে আর ধাতু আসে ভূতল থেকে । এখন কল্পনা করুন আপনি কোন এক মরুভূমির পাশ দিয়ে হাঁটছেন যেখানে অনেক তেল, বালি এবং ধাতু পড়ে আছে এবং হঠাৎ আপনি দেখতে পেলেন যে খুব সুন্দর একটা মোবাইল ফোন পরে আছে । আপনি কি ধরেই নিবেন যে মোবাইল ফোনটা নিজে নিজেই তৈরি হয়েছে? অর্থাৎ সূর্যের উত্তাপে বজ্রপাত আর বাতেসের বেগে তেলগুলো বুদবুদ করে উপরে চলে এসে বালি আর ধাতুর সাথে সংমিশ্রিতি হয়ে লক্ষ কোটি বছর পরে এই মোবাইল ফোনটির আবির্ভাব হয়েছে!!! কেউ কি এই ধরনের ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করবে? মোবাইল ফোন এমন একটা জিনিষ যেটাকে স্পষ্টতই কেউ না কেউ পরিকল্পিত চিন্তার দ্বারা ডিজাইন করে একে নির্মিত করেছেন । সুতরাং এটার একজন নির্মাতাও আছে । ঠিক একইভাবে আমরা মহাবিশ্বে যখন সূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয় দেখি তখন এর পেছনে একজন সমন্বয় কারী আছে এটা ভাবাইকি যুক্তিসঙ্গত নয়? কিন্তু আমার নাস্তিক যুক্তিবাদী বন্ধুর মনে প্রশ্ন হলঃ “মহাবিশ্বের কোনো এক শৃঙ্খলা যদি ঈশ্বরের প্রমাণ হতে পারে তবে বিশৃঙ্খলা কিসের প্রমাণ হবে?”(সুত্রঃ মুক্তমনা) অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে বিশৃঙ্খলা মানে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই! আমি জানিনা নাস্তিকরা এখানে “বিশৃঙ্খলা” দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন । উনারা যেটাই বুঝাতে চান না কেন এতে কোন সমস্যা নেই কারন শৃঙ্খলা বা উনাদের ভাষায় “বিশৃঙ্খলা” যেটাই হোক এসবই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বেরই প্রমাণ করে! শৃঙ্খলা বা বিশৃঙ্খলা কোন কিছুই এমনি এমনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সংগঠিত হয়না । কোথাও কি দেখেছেন এমনি এমনি বিশৃঙ্খলা ঘটতে? নাস্তিকদের understanding অনুযায়ী যখন কোন কিছু সাজানো গোছানো দেখবেন ধরে নেবেন এটা কোন মানুষের কাজ যেহেতু অভিজ্ঞতা তাই বলে আর যখন এলোমেলো কিছু দেখবেন তখন এর পেছনে কারন নেই, এটা দৈবক্রমে এমনি এমনি ঘটেছে । যুক্তিবাদির যুক্তি দেখেন!!!

২। মহাবিশ্বের সূত্রপাত

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কিছু বিজ্ঞানী মনে করেছিলেন আমাদের এই মহাবিশ্ব সর্বদা বিদ্যমান ছিল সুতরাং এর কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই যেহেতু কোন কিছু যদি সর্বদা বিদ্যমান থাকে তাহলে সেই জিনিষের কোন স্রষ্টা লাগে না । কিন্তু পরবর্তীতে (cosmologists ) মহাবিশ্বতত্ত্ববিদরা আবিষ্কার করল যে আমাদের এই মহাবিশ্বের একটা শুরু হয়েছিল, এর সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে একটা বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনার মাধ্যমে যেটাকে মহা বিস্ফোরণ (big-bang) বলা হয় । এবং বিজ্ঞানীদের কাছে এই theory বা তত্ত্বটা সর্বাধিক গৃহীত হয়েছে যেহেতু এই তত্ত্বটা পর্যবেক্ষণযোগ্য । যাইহোক, এখন আসাযাক এই তত্ত্বের তথা এই মহা বিস্ফোরণ (big-bang) এর মূল বিষয়ে । এই তত্ত্বের মূল সারমর্ম হল; এই মহাবিশ্ব তথা আমাদের সৌরজগৎ, চাঁদ, অগণিত তারা, সূর্য, ধুমকেতু এসবই প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে একটা ছোট পিণ্ডের মত ছিল এবং সেই অবস্থায় একদিন হঠাৎ একটা মহাবিস্ফোরণ বা big bang হয় এবং এই মহাবিস্ফোরণের পর আমাদের এই সৌরজগৎ সহ এই মহাবিশ্বের আবির্ভাব হয়! এবার ভেবে দেখুনতো, আপনি আপনার ড্রয়িংরুমে বসে আছেন আর হঠাৎ করে পাশের ঘর থেকে একটা বিকট আওয়াজ শুনতে পেলেন । হৎচকিয়ে আপনি পাশে বসে থাকা আপনার ছোট ভাইকে বললেন “কি হয়েছে দেখত” । সে পাশের ঘর থেকে ঘুরে এসে বলল “কিছুই হয়নি, ওঘরে কেউ নেই এমনি এমনি কোন কারন ছাড়াই একটা বিকট শব্দ হয়েছে” শুধু তাইনা সে আরও বলল যে “বিকট আওয়াজের পর ঘরের যাকিছু ছিল সবকিছু সাজানো গুছানো এবং নতুন হয়ে গেছে” । আপনি আপনার ভাইকে কি বলবেন বা করবেন সেটা আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম । কিন্তু আপনি অবশ্যই তার কথা কক্ষনোই বিশ্বাস করবেন না । কারন আপনি জানেন যে কোন কারণ ছাড়া এমনি এমনি কোন কিছু ঘটেনা । আপনি নিজেকে প্রশ্ন করবেন কে বা কিসে এই বিকট শব্দটি ঘটাল? এর পিছনে উদ্দেশ্যটা কি? আরও নানা রকম প্রশ্নের উদ্রেক হওয়াটাই খুবই স্বাভাবিক । ঠিক এই একই যুক্তিতে আমরা বলতে পারি মহা বিস্ফোরণ (big-bang) এরও অবশ্যই একটা কারন আছে তথা কেউ না কেউ এটাকে ঘটিয়েছে, এটা এমনি এমনি ঘটেনি । আপনার ছোট ঘরের মধ্যে যদি এমনি এমনি কিছু ঘটতে না পারে তাহলে মহাবিশ্বের মহাবিস্ফোরণ এমনি এমনি ঘটারতো কোন কারন থাকার কথা না । এবং যে ঘটিয়েছে তাকে অবশ্যই খুবই প্রজ্ঞাময়ি এবং বিচক্ষন হতে হবে । কারন কোন সৃষ্টি যত জটিল এর সৃষ্টি কর্তাও তত বেশী বিচক্ষন হয় । মহাবিশ্বের চেয়ে জটিল সৃষ্টি আর কি হতে পারে? সুতরাং এর সৃষ্টি কর্তাকেও মহা প্রজ্ঞাময় হতে হবে, বরং তার প্রজ্ঞা আমাদের ধারনার সীমানার বাইরে ।

একটি প্রশ্নের জবাবঃ সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?

আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি নাস্তিকরা উপরোল্লিখিত এই যুক্তিটা খণ্ডন করতে পারে না কিন্তু এই যুক্তির উপর ভিত্তি করে পাল্টা আরেকটা যুক্তি পেশ করে । তারা জিজ্ঞাসা করে যে ঠিক আছে যদি সবকিছুরই সৃষ্টি কর্তা থাকে তাহলে সৃষ্টি কর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে? হুম, আমি তাদেরকে প্রশ্ন করি একটু ভেবে বলুনতো আমি কোথায় বলেছি যে “সবকিছুরই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে”? আমি কখনোই বলি না যে “সবকিছুরই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে” বরং সবকিছুই যেটার অস্তিত্বের শুরু আছে সেটারই একটা সৃষ্টিকর্তা আছে । শুরিতেই বলেছিলাম “মহাবিশ্বের একটা শুরু হয়েছিল” সুতরাং এটারও একটা সৃষ্টিকর্তা আছে । যাইহোক, কিন্তু নাস্তিকের মাথা থেকে এটা কোন ভাবেই যাচ্ছে না যে সৃষ্টকর্তা কিভাবে এল, তার অস্তিত্বের শুরু কিভাবে হল? আমি বলি সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে না আর সৃষ্টিকর্তার কোন শুরুও থাকা সম্ভব না । কারন তাহলে একটা যৌক্তিক অসম্ভাবনার সৃষ্টি হবে । আসুন একাটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা বুঝার চেষ্টা করা যাক । ধরুন আপনি র‍্যাবের একজন চৌকস সৈনিক এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অপারেশনে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে ধরার জন্য বেড়িয়েছেন । অপারেশনের কোন এক পর্যায়ে আপনারা যাকে খুঁজছেন তাকে আপনি বন্দুক হাতে যেতে দেখলেন । এখন আপনার হাতেও এ কে ৪৭ প্রস্তুত কিন্তু গুলি চালাবার আগে আপনাকে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট হতে অনুমতি নিতে হবে । সংগে সংগে আপনি আপনার পেছনে দাড়িয়ে থাকা আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট অনুমতির জন্য জিজ্ঞাসা করলেন “স্যার, দেই গুলি করে, ক্রস ফায়ার বলে চালিয়ে দেব”? । কিন্তু আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনাকে বললেন যে “অপেক্ষা কর আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে আসি” । তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট অনুমতি চাওয়ার পর সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একই কথা বললেন “অপেক্ষা কর আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে আসি” । এখন এই পরিস্থিতি যদি অসীমভাবে চলতে থাকে তাহলে আপনি কি আদৌও আপনার ওই টার্গেটকে গুলি করতে পারবেন? কখনোই না । আপনি আপনার টার্গেটকে তখনই গুলি করতে পারবেন কেবলমাত্র কেউ যদি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমন থাকে যার আর কারো কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নাই, যিনি self sufficient; আত্বনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ । এখন আমরা যদি বলি যে সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছেন আরেক সৃষ্টিকর্তা এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন আরেক সৃষ্টিকর্তা এবং এভাবে যদি অনন্তকাল যেতে থাকি তাহলে সৃষ্টিকার্যই শুরু হবে না ঠিক র‍্যাবের সেই সৈনিকের মত কিন্তু সৃষ্টিজগত বিদ্যমান! (এটাকে গণিতবিদরা বলে (infinite regress) “অসীম পশ্চাদগমন” যেটা একটা যৌক্তিক অসম্ভাবনার জন্ম দেয় । আর বিজ্ঞানীদের নিকট “অসীম রাশি” বলতে কিছু নেই কারন এটা পর্যবেক্ষণ যোগ্য নয় এটা একটা কাল্পনিক রাশি । যেমন; অসীম রাশি থেকে কিছু যোগ বা বিয়োগ করলে অসীম রাশিই থাকে এর কোন পরিবর্তন হয়না )। সুতরাং এই যুক্তির আলোকে, সৃষ্টিজগত থেকে এটা স্পষ্টত প্রমানিত যে সৃষ্টিকর্তা একজনই এবং সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকা সম্ভব নয় । আর এই সৃষ্টিকর্তা চিরন্তন, অনন্ত, কালাতীত এবং মহাজগতের বাইরে তথা সৃষ্টির বাইরে যেহেতু এসবই তার সৃষ্টি ।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিঃ

ক) সবকিছু যেটার অস্তিত্বের একটি শুরু আছে সেটার শুরুর পেছনে একটি কারণ/উৎস(cause) আছে। –

খ) মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে। সুতরাং:

গ) মহাবিশ্বের একটি কারণ/উৎস (cause) আছে।

এই কারণ/উৎস (cause) হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা কারণ জড় বা জ্ঞানহীন কোন কিছু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টির কারণ হতে পারে না । এই মডেলটি ভুল প্রমাণ করতে হলে আপনাকে ক) এবং খ) কে ভুল প্রমাণ করতে হবে । অর্থাৎ আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে কোন কোন জিনিষের অস্তিত্বের শুরু কোন কারন ছাড়াই হয়ে থাকে অর্থাৎ এমনি এমনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হয়ে থাকে । যেমন ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন আর হঠাৎ করে একটা মুরগির ডিম অথবা একটা গাড়ি বা এরকম যে কোন কিছু আপনার সামনে এসে হাজির হল!!! উল্লেখ্য যে আমি এটা বলছিনা যে সবকিছুর পেছনে একটা কারন আছে বরং যে জিনিসের অস্তিত্তের শুরু আছে সেই জিনিসেরই একটা কারন আছে ।

৩। বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ

নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নেই তাহলে আমার প্রশ্নঃ কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা নির্ধারণ করবে কে? ভাল মন্দের সংজ্ঞাই বা কি? আপনার মতে হয়ত কিছু কাজ ভাল এবং এর দ্বারা আপনার মানসিক শান্তি উপলব্ধি হয় । কিন্তু আরেকজনের কাছে হয়ত ঠিক এর বিপরীত তথা আপনার দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ কাজ সেগুলো করে শান্তি পায় । আপনি তাকে মন্দ ব্যাক্তিও বলতে পারবেন না যেহেতু সৃষ্টিকর্তার অনুপস্থিতিতে আমরা কারো অধিনে না, আমরা সবাই একেকটা স্বাধীন জীব, আমরা যেভাবে খুশি সেভাবে চলতে পারি । নাস্তিকরাও তাই বলে যে “কোন ছকে বাঁধা মতবাদ অনুসরন করতেই হবে এর কোন মানে নেই” । (সুত্রঃ মুক্তমনা)

এখানে আমার এই প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হল যে কারো কাছে যদি চূড়ান্ত জবাবদিহিতা করতে না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে আমি বা আপনি কেউই ভাল মন্দের সংজ্ঞা নিরুপন করতে পারবনা । অর্থাৎ করো কাছে জবাবদিহিতা না থাকলে আমরা সার্বজনীন বস্তুগত ভাল বা মন্দ (absolute good বা bad) অথবা সার্বজনীন বস্তুগত সত্য বা মিথ্যা (absolute/objective truth বা false) কি তা কখনোই নির্ধারণ করতে পারব না এবং যার ফলাফল হত ভয়াবহ । কিন্তু আমরা জানি যে সার্বজনীন বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ (absolute good বা bad) অথবা সার্বজনীন বস্তুগত সত্য বা মিথ্যার (absolute/objective truth বা false) অস্তিত্ব আছে । যেমন ধরুন ধর্ষণ করা যে মন্দ কাজ এটা সার্বজনীন এমনকি ধর্ষণকারীর কাছেও এটা খারাপ কাজ কারন সেও কখনও তার নিজের মা বা বোনকে কেউ ধর্ষণ করুক এটা কখনই চাইবে না । এখন প্রশ্ন হল এই চূড়ান্ত জবাবদিহিতা করবেন কার কাছে? এই চূড়ান্ত জবাবদিহিতা হতে হবে সৃষ্টিকর্তার কাছে । কেন? কারন সৃষ্টি কর্তা ছাড়া জবাবদিহিতার প্রশ্নই আসেনা । কারন তখন আমি ধরে নেব যে আমি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আকস্মিকভাবে সৃষ্ট অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় একটা জীব যেটা এমনি এমনি ঘঠেছে, আমার জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই কোন মানে নেই এবং মৃত্যর মধ্য দিয়ে আমি একদিন এই প্রক্রিয়ার মাঝে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব । সুতরাং যতদিন বেচে থাকব ততদিন আমি শুধু আমার আরাম আয়েস, সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি নিয়েই মশগুল থাকব যেহেতু মৃত্যর পর আর কিছু নেই। অন্যের কি হল বা না হল সেটা আমার কাছে কোন বিষয় না । আমার কাছে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, লুন্ঠন কোন খারাপ কাজ না । কিন্তু বাস্তবে আমরা তা দেখিনা । আর ঠিক এই কারনেই বর্তমান সময়ের অক্সফোর্ডের একজন বড় মাপের নাস্ত্যিক যার নাম জে এল ম্যাকি তার দি মিরাকল অফ থিয়িজম (The Miracle of Theism) নামক বইয়ের ১১৫-১১৬ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেনঃ “If, then, there are such intrinsically prescriptive objective values, they make the existence of a god more probable than it would have been without them. Thus we have, after all, a defensible inductive argument from morality to the existence of a god” আমার রাফ অনুবাদ “যদি এরকম প্রকৃত প্রচলিত বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধ থেকে থাকে তাহলে সেটা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় । সুতরাং, অবশেষে আমরা বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের দ্বারা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের একটা inductive যুক্তি পেলাম” । অর্থাৎ বড় বড় নাস্তিকরাও স্বীকার করেন যে বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের দ্বারা সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায় ।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিঃ

ক। যদি সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্ব না থাকত, তাহলে বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের অস্তিত্ব থাকত না
খ। বস্তুগত নৈতিক মুল্যবোধের অস্তিত্ব আছে
গ। সুতরাং, সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বও আছে ।

Leave a Comment